সিংড়ায়  অবৈধভাবে বালু উত্তোলন হুমকির মুখে শহর রক্ষা বাঁধ

খলিল মাহমুদ :
নাটোরের সিংড়ায় নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে গুরড়ই নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। নদীতে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করায় হুমকির মধ্যে পড়েছে শহর রক্ষা বাঁধ, রাস্তা ঘাট ও আশে পাশের নির্মিত ঘড় বাড়ি।

১৫ দিন থেকে গুরনই নদীর ২/৩টি স্থানে মেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলন করা হলেও যেন দেখার কেউ নেই। এই বর্ষা মৌসুমে ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন এলাকাবাসী। সরেজমিন পৌর এলাকার সিংড়া দহ্, ফেরিঘাট, চকসিংড়া নামক স্থানে গিয়ে দেখা গেছে নদীতে কোনো চর না থাকলেও ড্রেজার মেশিন বসিয়ে দেদারসে বালু উত্তোলন ও বিক্রয় করা হচ্ছে। খনন করে বালু উত্তোলনের বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও ইজারাদাররা তা মানছেন না।

নদীর থেকে বালু খনন করার কারণে ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে সিংড়ার শহর রক্ষা বাঁধ, সিংড়া ফেরিঘাট ব্রীজ, নদীর পাশের বসতবাড়ি।

নাম প্রকাশের অনিচ্ছুক একজন জানান, ২০১৮,২০২০ সালের বন্যায় দুটি স্থানের বাঁধ ভেঙে ব্যাপক সম্পদ ও ফসল হানি হয়। সিংড়া আত্রাই নদী / গুরনই নদী থেকে ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন করায় বন্যা ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে ওই স্থানগুলোর নদীর উভয় পাশে বসবাসকারী হাজার হাজার মানুষ।

নদীর পাশে বসবাসকারী একজন বলেন, গত বছর সৌতি জালের জন্য ভেঙে যাওয়া বাঁধ পুরোপুরি সংস্কার না হতেই পুনরায় মেশিন দিয়ে নদী থেকে বালু উত্তোলন করায় এ বছরও এলাকাবাসী বন্যা ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন। কিন্তু ইজারাদাররা প্রভাবশালী হওয়ায় এলাকাবাসী কোনো প্রতিকার করতে পারছেন না।

অভিযুক্ত ইজারাদার আহসান হাবিব রোজ প্রতিবেদক কে বলেন, আমি নওগাঁ থেকে বালু এনে সিংড়াতে দিচ্ছি আর সিংড়াতে যে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন হচ্ছে সেইটা আমি ভাড়া দিয়েছি ঠিকাদার শাহিনের কাছে আমাদের বালু উত্তোলনের অনুমতি দিয়েছে। চিঠি হাতে পাইনি, ২/১ দিনের মধ্য পাবো।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এম.এম সামিরুল ইসলাম বলেন, ড্রেজার মেশিন দিয়ে নদী থেকে বালু উত্তোলনের নিয়ম নেই। বালু উত্তোলনের অনুমতি তাদের দেওয়া হয়নি। এ বিষয়ে অভিযোগ পাওয়ার পর বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল।

নাটোর জেলা প্রশাসক (ডিসি) শামীম আহমেদ জানান, নদীতে বালু উত্তোলনের কোনো অনুমতি দেওয়া হয়নি এবং সিংড়ার ইউএনও এর সাথে কথা বলুন সে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

শর্টলিংকঃ