লালপুর মুক্ত দিবস


সালাহ উদ্দিন :
নাটোরে স্থানীয় প্রশাসনের আয়োজনে এই প্রথম বার লালপুর মুক্ত দিবস পালন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার ( ১৩ ডিসেম্বর ) লালপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) ও সহকারী কমিশনার ( ভূমি ) দেবাশীষ বসাকের সভাপতিত্বে আলোচনায় অংশ নেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ইসাহাক আলী , উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আফতাব হোসেন ঝুলফু ,গোপালপুর ডিগ্রী পাস কলেজের অধ্যক্ষ বাবুল আক্তার ,
বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রাজ্জাক. বীর মুক্তিযোদ্ধা বয়েত উল্লাহ ,বীর মুক্তিযোদ্ধা সামসুল হক,বীর মুক্তিযোদ্ধো কে,এম শাহাদাত ঈমাম রঞ্জু প্রমূখ। এ উপলক্ষে একটি র‍্যালি উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে আলোচনা সভায় মিলিত হয়।
বীর মুক্তিযোদ্ধা মজিবর রহমান বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধে লালপুরের ময়না গ্রামে পাক বাহিনীর সঙ্গে মুক্তিকামী মানুষের উত্তরাঞ্চলের প্রথম সম্মুখযুদ্ধ হয়। ১৯৭১ সালের ৩০ মার্চ থেকে ১৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত পাকবাহিনী রাজাকারদের সহায়তায় লালপুরের বিভিন্ন এলাকায় হত্যা, নির্যাতন, অগ্নিকান্ড ও লুটতরাজ চালায়।
৩০ মার্চ ময়নার আম্রকাননে সম্মুখযুদ্ধে হানাদার বাহিনীর ২৫নং রেজিমেন্ট ধ্বংস হয়। সেদিন প্রায় ৮০ জন মুক্তিযোদ্ধা শহীদ ও ৩২ জন আহত হন। পাক সেনাদের ছোঁড়া একটি সেলে চামটিয়া গ্রামের ৩ জন শহীদ হন। ১২ এপ্রিল ধানাইদহ ব্রিজের নিকট প্রতিরোধ যুদ্ধে ১০ থেকে ১২ জন শহীদ হন। ১৭ এপ্রিল দুয়ারিয়া ইউনিয়নের রামকান্তপুর গ্রামে পাকবাহিনী হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে ১৮ জনকে হত্যা করে।
৫ মে পাক হানাদার বাহিনী নর্থ বেঙ্গল সুগার মিল এলাকা ঘেরাও করে মিলের তৎকালীন প্রশাসক লে. আনোয়ারুল আজিমসহ কর্মরত প্রায় অর্ধশত শ্রমিক, কর্মচারি ও কর্মকর্তাকে চিনিকলের অফিসার্স কলোনীর পুকুর পাড়ে দাঁড় করিয়ে ব্রাশ ফায়ার করে হত্যা করে। ওই দিনই গোপালপুর বাজারে ৭ জন ও গোপালপুর-লালপুর রাস্তার শিমুলতলায় আরও ৫ জনকে গুলি করে হত্যা করে। ২৯ মে খান সেনাদের একটি দল চংধুপইলের পয়তারপাড়া গ্রামে নদীর পাড়ে ধরে এনে অর্ধশতাধিক নিরীহ মানুষ গুলি করে হত্যা করে। ১৯ জুলাই গোপালপুর থেকে ধরে এনে ২২ জনকে লালপুর নীলকুঠির নিকটে হত্যা করা হয় এবং ২৬ জুলাই একই স্থানে আরোও ৪ জনকে জীবন্ত কবর দেয়। ২০ জুলাই রামকৃষ্ণপুর গ্রামে অগ্নিসংযোগ ও ৫ জনকে হত্যা করে। ২৭ জুলাই বিলমাড়িয়া হাট ঘেরাও করে বেপরোয়া গুলি বর্ষন করে ৫০ থেকে ৬০ জনকে হত্যা করে। ৮ ডিসেম্বর পাঞ্জাব পুলিশ ও খান সেনারা এবং ৯ ডিসেম্বর অধিকাংশ রাজাকার থানা ত্যাগ করে। ১০ ডিসেম্বর মুক্তিবাহিনী লালপুর থানার দখল নিয়ে জনতা উল্লাসে মেতে উঠে। কিন্তু ১৩ ডিসেম্বর বর্বর খান সেনারা ঝটিকা আক্রমণ করে মৃহেশপুর গ্রামে ৩৬ জনকে গুলি করে পালিয়ে যায়। বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে লালপুরে ১৩ ডিসেম্বর ‘লালপুর মুক্ত দিবস’ পালিত হয়ে আসছে।
যুদ্ধকালীন রেলওয়ের ২১৮ নম্বর বাওড়া ব্রিজ বদ্ধভূমিতে বিভিন্ন এলাকার মানুষকে ধরে এনে এখানে নৃশংসভাবে হত্যা করে পাকিস্তানি বাহিনী।
১৬ ডিসেম্বর দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ২৪ ডিসেম্বর লালপুর শ্রী সুন্দরী পাইলট হাইস্কুল মাঠে এক বিজয় উৎসব, আলোচনা সভা ও শহীদদের আত্মার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের পর আনুষ্ঠানিকভাবে লালপুরে স্বাধীন বাংলার পতাকা উত্তোলন করা হয়।

শর্টলিংকঃ