লালপুরে নবেসুমি লি. শ্রমিকদের ফটক সভা

আতিকুর রহমান (আতিক ) লালপুর :

নাটোরে লালপুরে নর্থ বেঙ্গল সুগার মিলের  বতর্মান পরিস্থিতিতে শ্রমিক ও কর্মচারী ইউনিয়নের আয়োজনে ফটক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আজ শনিবার ( ৯ অক্টোবর ) সকাল ১০ টা ৩০ মিনিটের দিকে উপজেলার গোপালপুর নবেসুমির প্রশাসনিক ভবনের সামনে অনুষ্ঠিত সভায় শ্রমিক ও কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি গোলাম কাওছার এর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেনের পিন্টুর সঞ্চালনায় এই সময় বক্তব্য রাখেন শ্রমিক ও কর্মচারী ইউনিয়নের যুগ্ম – সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান নাহিদ,সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল মমিন, অর্থ সম্পাদক সায়েদ,সাবেক শ্রমিক নেতা সাখাওয়াত হোসেন, আবুল কালাম আজাদ, আব্দুল হাই,পাবনা সুগার মিলের সাবেক সভাপতি সাজেদুল ইসলাম শাহিন, সাবেক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আসরাফুল ইসলাম উজ্জল, সদস্য সেন্টু মিয়া প্রমূখ।

সভায় বক্তরা জানান, চিনি শিল্প ধ্বংস করতে পায়তারা করছে একটি কুচক্রী মহল। তারই অংশ হিসেবে বন্ধ মিল চালু না করে সেসব মিলের শ্রমিক ও কর্মচারীদের এ মিলে বদলী করা হচ্ছে। অথচ এসব পদে অনেক আগে থেকেই অস্থায়ী ভিত্তিতে কাজ করছেন শ্রমিক -কর্মচারীরা । অন্য বন্ধ মিলের শ্রমিক-কর্মচারীরা এই মিলে যোগদান করায় এই মিলের শ্রমিকরা তাদের কাজ হারিয়ে বেকার অবস্থায় জীবন কাটাচ্ছেন।

সভায় দেলোয়ার হোসেন পিন্টুর বলেন, বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্পের আওতাধীন ৬ টি সুগার মিলের মাড়াই কার্যক্রম বন্ধ করেন এবং ৯ টি সুগার মিলের মাড়াই কার্যক্রম চালু রাখেন।পরবর্তিতে ৫ সেপ্টেম্বর বন্ধকৃত ৬ টি মিলের স্থায়ী শ্রমিক-কর্মচারীদের-কে চালুকৃত ৯ টি মিলে সমন্বয় করা হয়।সেখানে সম-বন্টন করা হয়নি অনেক নেতৃবৃন্দের তদবিরে সদর দপ্তরের কিছু কর্মকর্তাদের যোগাযোগের মাধ্যমে নর্থ বেঙ্গল সুগার মিলে জনবল বেশি দেওয়া হয়েছে।পার্শ্ববর্তী মিল রাজশাহীতে স্থায়ী পদে ৮৪ জন এবং মৌসুমী পদে ৭৫ জন জনবল সমন্বয় করা হয়েছে। এদিকে নাটোর সুগার মিলে স্থায়ী পদে ১১১জন এবং মৌসুমী পদে ১০৬জন জনবল সমন্বয় করা হয়েছে। অথচ নবেসুমি স্থায়ী পদে ১৫৪ জন জনবল এবং মৌসুমী পদে ৭৯ জন জনবল সমন্বয় করা হয়েছে।বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়, যে কিছু ফেডারেশনের নেতৃবৃন্দের মাধ্যমে সদর দপ্তরের কিছু কর্মকর্তাদের যোগসাজসে আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে অপেক্ষাকৃত ভাল মিলে সমন্বয় করা হয়েছে।
তারপরও অর্থনৈতিক বানিজ্য থেমে নেই নাম না প্রকাশ করার শর্তে একজন শ্রমিক বলেন যে সমন্বয়ের মাধ্যমে বদলিকৃত একজন শ্রমিক-কর্মচারী নেতৃবৃন্দের মাধ্যমে সদর দপ্তরের মাধ্যমে ৫০ হাজার থেকে ১ লক্ষ টাকার বিনিময়ে অপেক্ষাকৃত ভাল বা বাড়ির কাছের মিলে বদলি নিয়ে আসতে শুর করেছে।যেমন ৫ সেপ্টেম্বর সমন্বয়ের হওয়া পাবনা মিল থেকে তাকে মোবারকগঞ্জ মিলে সমন্বয়ের মাধ্যমে তার চাকরি বাঁচানো হয় অথচ ৭ অক্টোবর মোবারকগঞ্জ সুগার মিল হতে নবেসুমি ঐ শ্রমিককেই কারখানায় বদলি করা হয়েছে।শ্রমিক-কর্মচারীদের সমন্বয়ের পর কোনভাবেই শ্রমিক বদলি করা উচিত নয়।কারণ এতে শ্রমিক-কর্মচারীদের মধ্যে অসন্তোষ সহ যেই মিল হইতে বদলি করা হচ্ছে সেই মিলের সুষ্ঠ কাজের বিড়ন্বনা সহ উক্ত শূন্য হওয়া পদের জন্য ওভার টাইম দিয়ে কাজ করার জন্য বাড়তি অর্থের প্রয়োজন হবে।আমাদের অত্র মিলের ২৪ জন স্থায়ী পদে ,মৌসুমি পদে প্রায় ১০০ জন দৈনিক হাজিরার শ্রমিক- কর্মচারীদের চাকরি হতে ছাঁটাই এর পায়তারা চলছে, মানবিক দিক বিবেচনায় রেখে তাদেরকে কাজে রাখার ব্যবস্থা জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

শর্টলিংকঃ