ভূমির ইতি কথা :

আব্দুল খালেক : ভূমির ইতি কথা: এ কথা আজ স্বীকৃত সত্য খাদ্যের সন্ধানে ঘুরে বেড়ানো আদিম যাযাবর জাতীগুলো ভূমি ব্যবহারের মাধ্যমেই সুচিত হয় আদি মানব সভ্যতা। জনসংখ্যার বৃদ্ধির মাধ্যমে বাড়তে থাকে জমির চাহিদা সে কারণে শুরু হয় জাতীতে জাতিতে ভূ’মি অধিকার নিয়ে প্রতিদ্বন্দিতা। এমনভাবে ইতিহাসের অমোঘ পথে হাজার হাজার বছর ধরে অধিকতর উন্নত ভূমি অধিকারের আকাংখায় এক জাতী আরেক জাতীকে নিশ্চিহ্ন করেছে। এক সভ্যতা আরেক সভ্যতাকে ধংশ করেছে। ভূমির উপর উন্নত জাতীগুলোর নির্ভরতা কুমলেও ইতিহাসের এ ধারা এখনও অব্যাহত আছে।
আদিম যুগে খাদ্যের চাহিদায় মানুষ জঙ্গল পরিস্কার করে ফসলী জমিতে রুপান্তর করে জমির মালিকা তৈরী করে নিতো। কাউকে কর বা জমির ফসলের হিস্যা দিতে হতো না। ইতিহাস পর্যালোচনা করে দেখা যায় উর্বরা জমি তথা ফসল উৎপন্ন জমির সন্ধানে নানা বর্ণের লোক বঙ্গ ভূমিতে পদার্পণ করে। বিভিন্ন জনগোষ্ঠির আন্তঃসংমিশ্রনে একটা সংকর প্রক্রিয়ায় বাঙ্গালী জাতী গড়ে উঠেছে। বিভিন্ন ভাষার সংমিশ্রনে বাংলা ভাষার ক্ষেত্রেও ঘটেছে সংকার্য । এমনি এক অনুপম জাতিগত সংমিশ্রনের কারণে বাংলাদেশের মানুষের দেহ বিশ্ব মানবের সম্মিলিত রক্তের ধারা বহমান। তাই এদেশের মানুষের শাররীক ও চেহারাগত কোন মিল পাওয়া যায় না।
বাদশাহী ও নবাবী আমলে জমির মালিকানা ছিল কৃষকদের হাতে। যদিও তখন জমিদারী প্রথা ছিল তখন সামান্য পরিমান কর প্রদান করে চাষীরা সুখে শান্তিতেই জীবন চালাতো। ১৭৫৭ সনের ২৩ জুন পলাশীর যুদ্ধে ইংরেজরা জয়লাভ করলে ১৯৬৫ সনে ইষ্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী বাংলার দেওয়ানী ও রাজস¦ আদায় ক্ষমতা লাভ করে। তাদের উদ্দেশ্য ছিল এদেশের প্রজাদের শোষন করা। রাজস্ব আদায়ের নানা প্রকার কৌশল অবলম্বন করে তারা ব্যর্থ হলে ১৭৯৩ সনে বৃটিশ সরকার চির স্থায়ী বন্দোবস্ত ব্যবস্থা প্রবর্তন করে ধনী পুজিপতিদের জমির মালিকা প্রদান করে। জমির মালিকানা চাষীদের হাত হতে তুলে দেয়া হয় জমিদারদের হাতে। শতাব্দীর পর শতাব্দী কৃষক ভূমিহীন প্রজায় পরিনত হয়। চাষীদের করতে হয় জমিদারদের দাসত্ব। তারা ইচ্ছা মাফিক জমির কর ধার্য করতো এবং বকেয়া খাজনার দায়ে জমির মালিকানা কেড়ে নিয়ে অন্যকে দেয়া হতো। এতে জমিদারদের আয় উন্নতি, বিলাসবসন ও চাকচিক্য ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পেতে থাকলেও গ্রামের সাধারণ মানুষের দুবেলা খেয়ে পড়ে বেচে থাকার পথ হয় রুদ্ধ হয়ে দুংখ দুর্দশার এক গভীর অন্ধকার নেমে আসে তাদের জীবনে। অতঃপর শত শত বর্ষ অন্যায় অত্যাচার নির্যাতনের পর ১৯৩০ দশকে শুরু হয় কৃষক আন্দলন। এতে বৃটিশ সরকার বাধ্য হয়ে ১৯৩৮ সনে বঙ্গীয় ভূমি রাজস্ব কমিশন গঠন করে। ১৯৪৭ সনে দেশ স্বাধীন হলে বঙ্গীয় ভূমি রাজস্ব কমিশনের প্রস্তাবিত সুপারিশ অনেক অংশে সংশোধন করে প্রস্তুত করা হয় রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন ১৯৫০। যা পার্লামেন্টে পাশ হয়ে ১৯৫১ সনে এই ভূমি আইন প্রকাশিত হয়। এতে কৃষকেরা মালিকানা ফিরে পেলেও জোতদারদের জন্য বরাদ্দ ১০০ বিঘা জমি পরিবর্তে ৩৭৫ বিঘা জমির মলিকানা নিয়ে নেয়। যতদুর জানা যায় রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন ১৯৫০ আইনটিতে ২৯০টির মত সংশোধণী আনা হয়েছে। এই রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন ১৯৫০ আইনে মোট ১৫২ ধারা রয়েছে। উহার মধ্যে প্রয়োজন মত অনেক ধারা বার বার সংশোধন করা হয়েছে। ফলে এই রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন ১৯৫০ আইনটির বেহাল অবস্থা হওয়ায় এবং সংশোধণীগুলো নানা ভাবে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকায় মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের এর ব্যবহার ও বাস্তবায়ন করা বলা চলে জটিল অবসস্থার সৃষ্টিই হয়েছে। সে কারণে রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন ১৯৫০ আইনটির বাতিল অংশ বাদ দিয়ে সংশোধিত অংশ সন্নিবেশিত করে এবং এই আইনের বাইরে যে সকল আইন প্রণয়ন করা হয়েছে সে সব আইন একত্রিকরণ করে এই আইনটি বাংলাদেশের ভূমি আইন নামে নতুনভাবে প্রকাশ করা জরুরী (সংক্ষিপ্ত)। ( সংশোধণী প্রস্তাব নিয়ে চলবে)

শর্টলিংকঃ