বে-হিসাবীভাবে টাকা খরচ করায় খুন হন রাখি খাতুন!

নাটোর সংবাদদাতা:
সম্প্রতি নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার মশিন্দা ইউনিয়নের বিলবিয়াসপুর এলাকায় পাট খেত এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
পরে রাজশাহীর সিআইডি ক্রাইমসিন ইউনিট ওই নারীর আঙ্গুলের ছাপ ডিজিটাল ডিভাইসে ব্যবহার করে পরিচয় শনাক্ত করে। খবর পেয়ে নিহতের ভাই ও বোন ঘটনাস্থলে পৌছে মরদেহটি সনাক্তের পর মামলা দায়ের করে। এরই ধারাবাহিকতায় নিহতের দ্বিতীয় স্বামী আসামী মিলন ইকবালকে গ্রেপ্তারের মাধ্যমে হত্যার রহস্য উদঘাটন করে পুলিশ।
ঘটনাচক্রে জানা যায়, বে-হিসাবীভাবে টাকা খরচ করায় খুন হন রাখি খাতুন!
আসামী মিলন রাজশাহীর তানোরের চান্দুরিয়া এলাকার ফজলুর রহমানের ছেলে। শনিবার রাতে পুলিশ তাকে তার ৩য় স্ত্রী তহমিনার বাবার বাড়ি গোদাগাড়ীর পাকড়ী গ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করে রবিবার দুপুরে আদালতে পাঠায়।


এসপি লিটন কুমার সাহা ও মামলার আইও এসআই আকরাম জানান, গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদে আসামী তাদের বলেছেন, ১ম স্ত্রীকে তালাক দিয়ে মামলাচক্রে পড়ার অভিজ্ঞতা রয়েছে আসামী মিলনের। এরপর সে রাখিকে বিয়ে করে ঢাকায় থাকতো। পাশাপাশি তার ৩য় স্ত্রী থাকতো গোদাগাড়ী। মিলন ঢাকায় গার্মেন্টস এ মাসিক ১৪ হাজার টাকা বেতনে কাজ করে ১০ হাজার টাকা দিত রাখিকে। কিন্তু মাসের মাঝামাঝি রাখি তাকে আবারও টাকার জন্য চাপ দিত। আর এতে সে তার ৩য় স্ত্রী তহমিনাকে ঠিকমত খরচ দিতে পারত না।
এক পর্যায়ে সে রাখিকে ডিভোর্স দেওয়ার কথা ভাবলেও ১ম স্ত্রীকে ডিভোর্সের পর মামলার তিক্ত অভিজ্ঞতা মনে পড়ায় সিদ্ধান্ত পাল্টে রাখিকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেয় মিলন।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ৩০ তারিখে ঢাকা সাভারের একটি দোকান থেকে লেহার হাতুর কিনে মিলন। পরের দিন সন্ধ্যার পর অফিস শেষে
আত্বীয়ের বাড়িতে বেড়াতে আসার কথা বলে রাখিকে নিয়ে বাস যোগে নাটোরের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়।


পূর্ব পরিকল্পনা মোতাবেক রাত ১টার দিকে কাছিকাটা ১০ নম্বর ব্রীজে নামে। এসময় মিলন
রাখিকে বলে সামনের মাঠ পর হলেই তার আত্বীয়ের বাড়ি। মাঠ দিয়ে যাওয়ার সময় তার কাছে থাকা লোহার হাতুড়ি দিয়ে সজোরে রাখির মাথার পিছনে আঘাত করে। মৃত্যু নিশ্চিত জেনে স্ত্রী রাখিকে পাট খেতের মধ্যে লুকিয়ে হত্যার কাজে ব্যবহৃত হাতুড় পাট খেতের মধ্যে ফেলে দিয়ে সে ৩য় স্ত্রীর বাড়ি গোদাগাড়ীর পাকড়ী গ্রামে চলে যায়।


নিহত রাখি গোদাগাড়ি উপজেলার তালধারি গ্রামের মোসলেম উদ্দিনের মেয়ে।

শর্টলিংকঃ