কতৃপক্ষের অবহেলায় লালপুর

দুড়দুড়িয়া পাকা রাস্তায়  লক্ষাধিক মানুষের দূর্ভোগ

ফজলুর রহমান পলাশ, লালপুর :

নাটোরের লালপুর উপজেলার দুড়দুড়িয়া ইউনিয়নের বসন্তপুর বিল এলাকায় লালপুর-বাঘা অভিমূখি আট্রিকা গ্রামের মাঝখান হয়ে দক্ষিণ দিকে মনিহাপুর রাস্তা অভিমুখী সড়কটি চরম দূর্ভোগে ভুগছে লক্ষাধিক মানুষ।

বৃহস্পতিবার (১৭ জুন ২০২১) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় আট্রিকা থেকে ৩ কিলোমিটার গন্ডবিলের রাস্তাটি পাকা কিন্তু বসন্তপুর বিলের অবৈধ ভাবে অসংখ্য পুকুর খনন ও পুকুরের মাটি ট্রাকের মাধ্যমে ইটের ভাটায় দেওয়ার কারনে রাস্তার মাটি পড়ে এমন রূপ নিয়েছে। এমনকি গত বছর বৃষ্টির পানিতে কয়েকটি গ্রাম ডুবে যাওয়ায় দুড়দুড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল হান্নান ও স্থানীয় সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম বকুলের নেতৃত্বে পানি বের করার জন্য পাকা রাস্তার কয়েকটি স্থান কেটে দেওয়া হয়। সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম কথা দিয়েছিলেন পরবর্তীতে রাস্তা সংস্কার করে দেওয়া হবে। কিন্তু একবছর পার হয়ে বর্ষা আসন্ন হলেও রাস্তা সংস্কারের কোন পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। উপরন্তু অবৈধ ভাবে অসংখ্য পুকুর খনন ও পুকুরের মাটি ট্রাকের মাধ্যমে ইটের ভাটায় দেওয়ার কারনে একটু হালকা বৃষ্টি হলেই মাটিগুলো নরম হয়ে রাস্তায় ব্যাপক হারে কাদামাটি হওয়ার বাইসাইকেল, মোটরসাইকেল মাইক্রো বাস সহ অসংখ্য যানবাহন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে মরণ ফাঁদে পরিনত হয়ে পড়ছে ।

এই সড়কটি দিয়েই লালপুরের একমাত্র শিল্পকারখানা নর্থ বেঙ্গল সুগার মিলস, লালপুর উপজেলা পরিষদ, লালপুর থানা, লালপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, লালপুর ফায়ার সার্ভিস, গোপালপুর পৌরসভা, লালপুর যুব উন্নয়ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও লালপুর স্টেডিয়ামে যাতায়াত করতে হয়। সরকারি-বেসরকারি, কর্মকর্তা-কর্মচারী, শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার প্রায় লক্ষাধিক মানুষ প্রতিদিন এই সড়কটিতে যাতায়াত করে থাকে। দীর্ঘ ২/৩ বছর ধরে সড়কটি এই বেহাল দশা। এবং এই সড়কটিতে দুড়দুড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের এপার ওপার ৯টি ওয়ার্ডের যাতায়াতে প্রধান সড়ক।

অটোচালক মোস্তাক আহম্মেদ সহ অনেকে বলেন, রাস্তটি সংস্কার হবে বলে দীর্ঘদিন পার হলেও সংস্কার না করায় সড়কটি এখন মরণ ফাঁদ। শুকনার সময় ধুলায় গা ভরে যায় আর বৃষ্টি হলেই কাঁদাপানিতে একাকার। নতুন পুরাতন নেই এই রাস্তা দিয়ে গাড়ি চলালেই দূঘর্টনার মূখে পড়তে হয়।

এলাকার সমাজসেবক আশরাফুল ইসলাম বলেন, নাসির মাস্টার, নাজিম, আব্দুর সামাদ, মোছাঃ রুবিনা বেগম, রওশনা বেগম বলেন, অবৈধ ভাবে অসংখ্য পুকুর খনন ও পুকুরের মাটি ট্রাকের মাধ্যমে ইটের ভাটায় দেওয়ার কারনে ‘এই রাস্তা কি সংস্কার হবে না..? রাস্তদিয়ে চলাচল করা যায়না তবুও প্রয়োজনের তাগিদে জীবনের ঝুঁকি নিয়েই চলাচল করতে হয়। দিন-রাতে শত শত গাড়ি এ রাস্তা চলাচল করে থাকে অনেক গাড়ি উল্টে পড়ে থাকে ড্রাইভার অনেক কাকুতি-মিনতি করে এলাকার জনগণকে গাড়ি উদ্ধার করতে তাই রাস্তা সংস্কার করে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানাই দূর্ভোগীরা।

দুড়দুড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল হান্নান বলেন, আমরা রাস্তায় রাবিশ দিয়ে কিছুটা চলাচলের ব্যবস্থা করেছিলাম, কিন্তু অবৈধ ভাবে পুকুর খনন ও মাটি রাস্তায় পড়ার কারণে চলাচল অনপোযোগী হয়ে পড়ে এবং সড়কে দূঘর্টনা ঘটে। এবিষয়ে আমি উপজেলায় মাসিক সভায় অনেক দিন বলেও কোন পদক্ষেপ পায়নি।

এই বিষয়ে লালপুর উপজেলা নির্বাহি অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাম্মী আক্তার জানান, আমরা খুব দ্রুত সেখানে যাবো এবং চলাচলে বিগ্ন যারা ঘটিয়েছে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। অপরদিকে রাস্তা সংস্কারের বিষয়ে আগামী মাসিক সভায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

শর্টলিংকঃ