ঢাকায় কর্মরত গোয়েন্দা পুলিশের স্ত্রীর বিরুদ্ধে

গৃহকর্মী নির্যাতনের অভিযোগে নাটোরে মামলা! গ্রেপ্তার


নাটোর সংবাদদাতা :
ঢাকায় কর্মরত গোয়েন্দা পুলিশের এক এসআইয়ের স্ত্রীর বিরুদ্ধে গৃহকর্মী নির্যাতনের অভিযোগে নাটোরে মামলা দায়েরের পর আসামীকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। ৩ বছর পর বুধবার রাতে বাবার বাড়ি,নাটোর সদর উপজেলার পাইকেরদোল এলাকায় ওই গৃহকর্মী আসামীর সাথে আসে। এসময় স্বজনদের কাছে ওই গৃহকর্মী জানায় তাকে দীর্ঘদিন নির্যাতন করার লৌমহর্ষক কাহিনী। এসময় আসামী ও তার মাকে আটক করে পুলিশে দেয় এলাকাবাসী। এঘটনায় বুধবার মধ্যরাতে ওই আসামীর বিরুদ্ধে সদর থানায় মামলা দায়ের করে ভুক্তভোগীর মা। ভুক্তভোগী শ্যামলী(১৩) পাইকেরদল গ্রামের নার্গিস খাতুনের মেয়ে।
আসামী সুমী খাতুন সদর উপজেলার ছাতনী ইউনিয়নের ভাবনী গ্রামের আসাদুলের মেয়ে এবং ঢাকায় কর্মরত গোয়েন্দা পুলিশের এসআই খন্দকার আতিকুর রহমানের স্ত্রী।

সদর থানার ওসি মনসুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ভুক্তভোগীর চাচাতো ভাই রিক্সাচালক
আসকান জানান, ৩ বছর আগে তিনি রিক্সা চালানো অবস্থায় সদর হাসপাতালের সামনে গেলে আসামীর সাথে পরিচয় হয়। এসময় আসামীর সমস্যার কথা শুনে মাসিক ১২ শ টাকা হিসেবে শ্যামলীকে গৃহকর্মীর কাজে দেন। এরমধ্যে ১ হাজার টাকা হিসেবে শ্যামলীর পরিবারকে মাত্র ৮ মাস টাকা দেয়া হয়েছে।বার বার বলার পরও শ্যামলীকে একবারের জন্যও আসতে দেয়া হয়নি। এমনকি শ্যামলীর দাদা মারা গেলেও তাকে আসতে দেয়া হয়নি। অবশেষে শ্যামলীর মায়ের বার বার ফোন পেয়ে বুধবার রাতে শ্যামলীকে বাড়ি নিয়ে আসে আসামী ও তার মা।
পাইকেরদোল গ্রামের হাসমতের স্ত্রী,ভুক্তভোগীর ভাবি মাসুরা খাতুন জানান, শ্যামলী বাড়ি পৌঁছলেও তাকে স্বজনদের কাছে আসতে বাধা দিচ্ছিল আসামীরা। এসময় তাদের সন্দেহ হলে তারা ভালো ভাবে লক্ষ্য করেন শ্যামলীর মুখ ও হাতে আঘাতের দাগ। ১০ মিনিট যেতে না যেতে আসামী বলে, তারা শ্যামলীকে নিয়ে চলে যাবে। এসময় সন্দেহ আরো ঘনিভুত হলে তিনি শ্যামলীকে চালাকীর সাথে জোর করে একটু দূরে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদে জানতে পারেন, আসামী তাদের বলেছিল তারা ঢাকা থেকে ট্রেনে এসেছে। ট্রেনের ভেতর খিঁচুরী খেয়েছে অথচ তারা এসেছে আসামীর বাবার বাড়ি ভাবনী গ্রাম থেকে। করোনার পর থেকেই তারা ভাবনী থাকতো।এসময় মাঝে মাঝেই বিভিন্ন অজুহাতে শ্যামলীকে নির্যাতন করতো আসামী সুমী। তিনিসহ এলাকার অনেকেই শ্যামলীর দেহে নির্যাতনের চিহ্ন দেখেছেন।
ভুক্তভোগী শ্যামলী জানায়,আসামী তাকে দিয়ে গরু-ছাগলের ঘাস কেটে নেয়াসহ নানা কাজ করাতো। সামান্য দোষেই তাকে হাতা ও লোহার প্লাস দিয়ে আঘাত করতো, গরম ইস্ত্রী চেপে কষ্ট দিত।
স্থানীয় অধিআাসী সাজেদুল বলেন,শ্যামলীর পরিবার অতি দরীদ্র হওয়ায় তাকে গৃহকর্মীর কাজে দিয়েছে। অথচ আইনের লোক হয়ে শিশু নিড়যাতনসহ শ্যামলীকে শারিরীক ও মানসিক নির্যাতনই শুধু নয় বরং তার মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছে আসামী। এমনকি শ্যামলীর ন্যায্য পাওনা টাকাও দেয়নি। এ অবস্থায় ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত শেষে আসামীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির পাশাপাশি ভুক্তভোগীর ক্ষতিপূরণের দাবী জানান তিনি।

সদর থানার ওসি মনসুর রহমান জানান, মামলা দায়েরের পর আসামীকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যাবস্থা নেয়া হবে।

শর্টলিংকঃ